Dainik Sotter Kontho - দৈনিক সত্যের কণ্ঠ
ঢাকাFriday , 8 September 2023
  • অন্যান্য

নদী ভাঙ্গনের মুখে মুজিববর্ষের দেওয়া ঘর

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
September 8, 2023 2:42 pm । ১৬০ জন

Google News

বরগুনার আমতলীতে নদী ভাঙ্গনের মুখে বিলিনের পথে সরকার কর্তৃক মুজিববর্ষে দেয়া অসহায় রাশিদার ঘরটি। গুলিশাখালী নদীর অব্যাহত ভাঙ্গণে চরম উৎকণ্ঠাতার মধ্যে বসবাস করছেন রাশিদা ও তার পরিবার।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুই বছর পুর্বে গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রাম সংলগ্ন গুলিশাখালী নদীর তীরে খাসজতিতে অসহায় বাস্তুভিটাহীন রাশিদার মাথা গোজার জন্য সরকার মুজিববর্ষের একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়। ওই ঘরেই রাশিদা তার ৭ম শ্রেনীর পড়–য়া মেয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে বসবাস করছেন। রাক্ষুসী গুলিশাখালী নদীর অব্যাহত ভাঙ্গণে চরম উৎকণ্ঠা, ভয় ও আতংকের মধ্যে ওই ঘরে বসবাস করতে হচ্ছে রাশিদার পরিবারকে। কখন জানি নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যায় তার ওই স্বপ্নের ঘরটি। আবারও বাস্তুভিটাহীন হয়ে পড়ার আশংকার মধ্যে দিন কাটছে রাশিদার। প্রতিদিনই একটু একটু করে ভাঙ্গছে। ইতিমধ্যে তার রান্নাঘরের একটি অংশ ও গাছপালা নদীতে ভেঙ্গে পড়েছে।

এছাড়া ওই গ্রামের একাধিক বসত ঘরসহ দোকান ঘর ও ফলদ বৃক্ষ ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে কলাগাছিয়ার পুরাতন বাজার এলাকায় নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা এতোই বেশি যে কোন মুহুর্তে ওই বাজার ও গ্রামের বৃহৎ একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

নদী ভাঙ্গনের স্বীকার স্থাণীয়রা জানান, প্রতিনিয়ত কলাগাছিয়া বাজারসহ সরকারী-বেসরকারী স্থাপনা ভাঙ্গনের কবলে পরছে। ভাঙ্গন শুরু হলে স্থাণীয় নদী তীরবর্তী বসবাসরত বাসিন্দারা তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে ভয়ে বেড়িয়ে আসেন। মুহুর্তের মধ্যেই তাদের চোঁখের সামনে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায় জমি, বাড়ি ঘর।

 

মুজিববর্ষের ঘর পাওয়া অসহায় ভুক্তভোগী রাশিদা জানান, ওই ঘরটুকু ছাড়া আমার আর কোন সহায় সম্বল নাই। আমার ঘরডা নদীতে ভাইঙ্গা গেলে আমার মাথা গোজার মত আর থাকার কোন জায়গা থাকবেনা। তাই বাধ্যহয়ে তখন আমার মেয়েকে নিয়ে রাস্তায় থাকা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। তাই জরুরীভাবে নদী ভাঙ্গনরোধে এখনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করা হলে আমি আবারো বাস্তভিটাহীন হয়ে পড়বো।

 

রাশিদার মেয়ে ৭ম শ্রেনীর পড়–য়া মেয়ে সুমাইয়া বলেন, সরকার আমাগো একটা ঘর দিয়েছে আমি ও আমার মা সেই ঘরে বসবাস করছি। আমি ওই ঘরে থেকেই পড়ালেখা করছি, এখন ঘরটা নদীতে ভেঙ্গে গেলে আমাদের আর থাকার কোন যায়গা থাকবে না। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানাই নদী ভাঙ্গনরোধে জরুরী ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের ঘরটি রক্ষা করার জন্য।

ভাঙ্গন কবলিত কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ শানু মিয়া বলেন, অসহায় রাশিদার মুজববর্ষের ঘরটি এখন নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

যে কোন মুহুর্তে রাক্ষুসী গুলিশাখালী নদী ঘরটি ঘিলে খাবে। এছাড়া ওই গ্রামের একাধিক বসত ঘরসহ দোকান ঘর ও ফলদ বৃক্ষ ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে কলাগাছিয়ার পুরাতন বাজার ও ওই গ্রামের বৃহৎ একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

 

গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডঃ এইচএম মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, খোঁজ নিয়ে গুলিশাখালী নদীর তীরে খাসজতিতে অসহায় বাস্তুভিটাহীন রাশিদার মাথা গোজার জন্য সরকার কর্তৃক মুজিববর্ষের দেয়া ঘরটি রক্ষা ও নদী ভাঙ্গনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।

 

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম মুঠোফোনে বলেন, সরেজমিন নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে মজিববর্ষে দেয়া অসহায় রাশিদার ঘরটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।