Dainik Sotter Kontho- দৈনিক সত্যের কণ্ঠ
Dainik Sotter Kontho - দৈনিক সত্যের কণ্ঠ
ঢাকাMonday , 14 August 2023
  • অন্যান্য

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী- ৩ আসন প্রথম থেকে বর্তমান বিজয়ী যারা

ডেক্স রিপোর্ট
August 14, 2023 6:37 am । ১৭৩ জন

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারী- ৩ সংসদীয় আসনটি জলঢাকা উপজেলা নিয়ে গঠিত । এটি জাতীয় সংসদের ১৪ নাম্বার আসন ।

 

১. দেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের আবুল হোসেন বিজয়ী হন ।

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত দেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি রংপুর- ১৪ নামে পরিচিত ছিল । নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১ লাখ ১০ হাজার ২ শত ১৪ জন । ভোট প্রদান করেন ৫৫ হাজার ৭ শত ২৭ জন । এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে আবুল হোসেন পান ৪৯ হাজার ৭ শত ১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ন্যাপ মোজাফফর এর বদরুজ্জামান মিয়া । তিনি পান ৪ হাজার ৫৭ ভোট ।

 

২. দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন মুসলিম লীগের আব্দুল কাদের

১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি পরিচিতি হয় রংপুর- ৩ নামে । নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৩শত ৫ জন । ভোট প্রদান করেন ৬৮ হাজার ৫ শত ৩৮ জন । মুসলিম লীগের আব্দুল কাদের বিজয়ী হন । হারিকেন প্রতীকে তিনি পান ২৯ হাজার ৭ শত ৪৬ ভোট । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির মোশারফ হোসেন । ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ২০ হাজার ৮ শত ৮৫ ভোট ।

৩. তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর মৌলানা জবান উদ্দিন বিজয়ী

১৯৮৬ সালের ৭মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর- ৩ আসনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়, নীলফামারী- ৩ । নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন ৭৪ হাজার ৫ শত ৮৯ জন । জামায়াত ইসলামীর মৌলানা জবান উদ্দিন বিজয়ী হন । দাড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পান ২৫ হাজার ৮ শত ২৪ ভোট । নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের আফসার উদ্দিন । নৌকা প্রতীকে তিনি পান ১৬ হাজার ১ শত ৯০ ভোট । এই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি ।

৪. চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী এন. কে আলম চৌধুরী

১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ, বিএনপিসহ পরিচিত রাজনৈতিক দল গুলো অংশগ্রহণ করেনি । প্রতিদ্বন্দ্বীতা বিহীন এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এন. কে আলম চৌধুরী বিজয়ী হন ।

৫. পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আজহারুল ইসলাম নির্বাচিত

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ভোটার ছিলেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯ শত ৮০ জন । ভোট প্রদান করেন ১লাখ ১১ হাজার ৪ শত ৬৪ জন । নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আজহারুল ইসলাম বিজয়ী হন । নৌকা প্রতীকে তিনি পান ৩৭ হাজার ১ শত ৩১ ভোট । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় পার্টির নুরুল হক । লাঙ্গল প্রতীকে তিনি পান ৩০ হাজার ৬৪ ভোট ।

৭. সপ্তম সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর মিজানুর রহমান চৌধুরী বিজয়ী হন

১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৬৩ হাজার ৯ শত ৫৪ জন । ভোট প্রদান করেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৮ শত ৫৩ জন । নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর মিজানুর রহমান চৌধুরী বিজয়ী হন । দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পান ৩৭ হাজার ৫ শত ৪৬ ভোট । নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় পার্টির রশীদুল আলম চৌধুরী । লাঙ্গল প্রতীকে তিনি পান ৩৫ হাজার ৩০ ভোট ।

৮. অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর মিজানুর রহমান পুননির্বাচিত

২০০১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৫ হাজার ৭ শত ২৬ জন । ভোট প্রদান করেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭ শত ৫৪ জন । নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর মিজানুর রহমান বিজয়ী হন । দাড়িপালা প্রতীকে তিনি পান ৬৪ হাজার ১ শত ৮০ ভোট । নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের দীপেন নাথ সরকার । নৌকা প্রতীকে তিনি পান ৫৫ হাজার ৪৩ ভোট ।

৯. নবম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কাজী ফারুক কাদের বিজয়ী

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭ শত ৫২ জন । ভোট প্রদান করেন ২ লাখ ১৪ হাজার ৪ শত ৯৫ জন । নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কাজী ফারুক কাদের বিজয়ী হন । লাঙ্গল প্রতীকে তিনি পান ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯ শত ৪৭ ভোট । নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত ইসলামীর আজিজুল ইসলাম । দাড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পান ৬৪ হাজার ৩ শত ৬৫ ভোট ।

১০. দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের গোলাম মোস্তফা

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯০ জন । ভোট প্রদান করেন ১ লাখ ১৪হাজার ১৪ জন । আওয়ামী লীগের গোলাম মোস্তফা বিজয়ী হন । নৌকা প্রতীকে তিনি পান ৭৮ হাজার ৯ শত ১৯ ভোট । নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় পার্টির কাজী ফারুক কাদের । লাঙ্গল প্রতীকে তিনি পান ২০ হাজার ৩ শত ৪৫ ভোট ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেনি ।

১১. একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির রানা মোহাম্মদ সোহেল বিজয়ী হন

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী- ৩ আসনে ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৭ শত ৭১ জন । ভোট প্রদান করেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮ শত ২৬ জন । নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ৩ জন ।

লাঙ্গল প্রতীকে রানা মোহাম্মদ সোহেল, ধানের শীষ প্রতীকে আজিজুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমজাদ হোসেন সরকার, হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন ।

জাতীয় পার্টির রানা মোহাম্মদ সোহেল বিজয়ী হন । লাঙ্গল প্রতীকে তিনি পান ১ লাখ ৩৭ হাজার ২শত ২৪ ভোট । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির আজিজুল ইসলাম । ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৪৪ হাজার ৯৩ ভোট ।

কারচুপির অভিযোগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নীলফামারী- ৩ আসনে প্রথম, পঞ্চম, ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হন ।

দ্বিতীয় সংসদে মুসলিম লীগ, তৃতীয়, সপ্তম, অষ্টম সংসদে জামায়াত ইসলামী, নবম ও একাদশ সংসদে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা বিজয়ী হন ।

বিএনপি শুধু ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১১ দিন মেয়াদী সংসদে বিজয়ী হন ।

এই আসনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত ইসলামীর সাংগঠনিক অবস্থা সমানে সমান । জামায়াত ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হওয়ার প্রেক্ষাপটে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ইসলামী বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং নীরবে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচারাভিযান চালাচ্ছেন ।

একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচনে নীলফামারী- ৩ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেয়নি! জাতীয় পার্টিকে ওয়াকওভার দেয় । দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টি এবং বিএনপি, জামায়াত ইসলামীর রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর নির্ভর করছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদে জলঢাকা উপজেলার এই সংসদীয় আসনের ভোটের লড়াই ।