Dainik Sotter Kontho- দৈনিক সত্যের কণ্ঠ
Dainik Sotter Kontho - দৈনিক সত্যের কণ্ঠ
ঢাকাWednesday , 9 August 2023
  • অন্যান্য

সৌদি থেকে এল ৪ শ্রমিকের লাশ, গ্রামজুড়ে শোক

নিজস্ব প্রতিনিধি
August 9, 2023 4:48 pm । ১৯১ জন
ছবিঃ সংগৃহীত

ছেলে ভালো, তাই প্রবাসী রুবেল হোসাইনের সঙ্গে মোবাইলে ভিডিও কলে মরিয়ম খাতুনের বিয়ে দিয়েছিল পরিবার । এরপর আসি আসি করেও ছুটি না পেয়ে রুবেলের বাড়ি আসা হয়নি । নববধূর মুখও সামনাসামনি দেখা হয়নি । দীর্ঘদিন পর রুবেল সৌদি আরব থেকে ফিরলেন বটে, তবে লাশ হয়ে । আজ বুধবার দুপুরে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাড়ইপাড়া গ্রামে রুবেলের কফিনবন্দী লাশ আনা হয় ।

গত ১৪ জুলাই সৌদির দাম্মামের হুফুফ শহরে একটি সোফা কারখানা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৯ জন নিহত হন । এর মধ্যে বাংলাদেশি সাতজন, যাঁদের চারজনের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বারইপাড়া ও বড় মাধাইমুড়ি গ্রামে । আজ বুধবার দুই গ্রামের চারজনেরই লাশ এসেছে । এ সময় গ্রাম দুটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে । স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন ।

নিহত চার শ্রমিক হলেন বারইপাড়া গ্রামের জফির উদ্দিনের ছেলে রুবেল হোসাইন, একই গ্রামের মো. জমিরের ছেলে মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম, সাজেদুলের ভাতিজা আরিফ হোসেন রুবেল ও বড় মাধাইমুরি গ্রামের আনিসুর রহমান সরদারের ছেলে ফিরুজ আলী সরদার ।

স্ত্রীর মুখ না দেখা রুবেল পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা আনতে সৌদি যান ছয় বছর আগে । স্বামীর লাশ আসার পর কখনো কাঁদছিলেন, কখনো শোকে পাথর হয়ে যাচ্ছিলেন কলেজছাত্রী মরিয়ম ।

মরিয়ম বলেন, মারা যাওয়ার আগের রাতেও রুবেলের সঙ্গে কথা হয় তাঁর । দেশে আসার জন্য শুক্রবার কাগজপত্র জমা দিয়ে কারখানায় যাবেন বলে জানিয়েছিলেন রুবেল । শুক্রবার( ১৪ জুলাই) রাতে আবার কথা বলবেন জানিয়েছিলেন । তাই রাতে ফোনও দিয়েছিলেন মরিয়ম । রাত ৯টা পর্যন্ত ফোন বেজেছে, কেউ ফোন ধরেনি । এরপর ফোন আর বাজেনি । পরের দিন সকাল ৮টার দিকে রুবেলের প্রবাসী বড় ভাই ফোন করে জানান, রুবেল মারা গেছেন ।

তিন ভাইয়ের মধ্যে রুবেল সবার ছোট ছিলেন । স্থানীয় দালালকে ১৬ কাঠা জমি লিখে দেওয়া ছাড়াও দেড় লাখ টাকা নগদ দিয়ে ২০১৬ সালে সৌদি আরব পাড়ি জমান রুবেল । তাঁর বড় দুই ভাই আগে থেকেই প্রবাসী । বড় ভাই সৌদি আরব এবং মেজ ভাই দুবাই থাকেন ।

বারইপাড়া গ্রামের শাহাদাত হোসাইনের একমাত্র ছেলে আরিফ হোসেন রুবেল সৌদি আরব যান আট মাস আগে । ফিরুজও যান আট মাস আগে । আর আগে থেকেই সৌদিতে থাকা চাচা সাজেদুল নিয়ে গিয়েছিলেন আরিফকেও । কাজের ব্যবস্থা করেছিলেন একই কারখানায় ।

আজ বুধবার সকালে প্রথমে ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আনা হয় সাজেদুল ও আরিফের লাশ । সম্পর্কে চাচা- ভাতিজা তাঁরা । এরপর আসে রুবেল ও ফিরুজের লাশ । তাঁদের হারিয়ে পাগলপ্রায় স্বজনেরা । এলাকাবাসীও ভিড় জমায় একনজর লাশ দেখতে । পরে একে একে সবার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয় ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) এ এফ এম আবু সুফিয়ান দৈনিক সত্যের কণ্ঠ কে বলেন, গতকাল মঙ্গলবার রাতে চারজনের লাশ ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় । সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁদের লাশ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় । সরকারি উদ্যোগে চারজনের লাশ আনা হয়েছে ।