Dainik Sotter Kontho- দৈনিক সত্যের কণ্ঠ
Dainik Sotter Kontho - দৈনিক সত্যের কণ্ঠ
ঢাকাTuesday , 29 August 2023
  • অন্যান্য

খানসামায় পাট চাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

পাকেরহাট বাজারে পাট বিক্রি করতে এসেছে পাট চাষিরা

দিনাজপুরের খানসামায় পাট চাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। প্রখর রোদ, অনাবৃষ্টির কারণে এবার চাষের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চাষিদের পোহাতে হয়েছে চরম ভোগান্তি ও কষ্টে। যার কারণে উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান বাজার মূল্য নিয়ে হতাশায় ভুগছেন পাট চাষিরা। এ বছর তেল, সার, কীটনাশকের দাম ও শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি খরিপ মৌসুমে খানসামায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। এখন গ্রামাঞ্চলে চলছে,পাট ধোয়া ও পাট শুকনোর কাজ শেষের দিকে। তবে এ বছর মৌসুমের শুরুতে পাট পচানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ কাঙ্ক্ষিত পানির দেখা না পাওয়ায় অনেকটাই বিপাকে পড়েছিলেন এ অঞ্চলের পাট চাষিরা।

পাট চাষিদের অভিযোগ প্রতি বছর পাটের উৎপাদন খরচ বাড়লেও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না তারা। এ অবস্থায় অনেক কৃষকই পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, কৃষকেরা লাভবান হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে পাটের আবাদ।

উপজেলার চাষিরা জানান, এক সময় পাটকে বলা হতো সোনালী আঁশ, বিদেশে রফতানি হওয়ায় অর্থকরি ফসল পাটের সেই সোনালী দিনগুলো এখন আর নেই বললেই চলে। তারপরও বংশ পরম্পরায় খানসামার পাট চাষিরা আবাদ করে যাচ্ছেন। চলতি বছর প্রতিকূল উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে পাটের আকার কিছুটা ছোট হলেও ফলন ভালো হয়েছে।

চাষিরা আরও বলেন, গত বছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় এবার পাট চাষ বেশি হয়েছে। প্রতি বিঘায় পাট চাষে কমপক্ষে ৯-১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন যদি ভালো হয় তাহলে প্রতি বিঘায় ৬-৭ মণ পাটের ফলন পাওয়া যায়। এত কিছুর পর যদি কাঙ্ক্ষিত দাম না মেলে তাহলে মাথায় হাত। তবে সবচেয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন ঋণ নিয়ে চাষ করা পাট চাষিরা।

আখতার মিয়া নামে এক পাট চাষি বলেন, আমরা যে আশা নিয়ে পাট চাষ করেছিলাম বৃষ্টি না থাকার কারণে এবার আমাদের পাটগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। আগে পানির মধ্যে পাট কাটতে খরচ খুব কম হতো কিন্তু এবার খরচ অনেক বেশি হয়েছে। পানি না থাকার কারণে পাট এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতেও খরচ হয়। আর যদি পানি থাকতো তাহলে এখানেই সবকিছু করা যেত।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দুই হাজার টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে। এই দামে পাট বিক্রি করলে আমাদের লস হবে। সরকার যদি পাটের দামটা তিন হাজার টাকা করে দিতো তাহলে আমরা কিছুটা লাভবান হতাম।

ফরিদ নামে আরেক চাষি বলেন, এবার পাট নিয়ে খুব চিন্তাই আছি। কারণ পানি না থাকার কারণে পাট কেটে অন্য জায়গায় নিতে লেবার খরচও লাগছে। এত টাকা খরচ করেও আমরা পাটের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না। যে মূল্য পাইকাররা বলে এতে আমাদের অনেক লস হবে। এমন যদি চলতে থাকে তাহলে আগামীতে আমরা পাট চাষ বন্ধ করে দেবো।

দাম নিয়ে ভিন্ন কথা বললেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন,এ বছর শুরুতে অনাবৃষ্টির কারণে গত বছরের তুলনায় পাট চাষ কম হলেও ফলন হয়েছে বাম্পার।বর্তমান বাজারমূল্য রয়েছে ভালো।এ বছর উপজেলায় ১ হাজার ৪৪০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ১ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে পাট হয়েছে। স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীন পাট উৎপাদন করতে পারে এজন্য আমরা প্রতিনিয়ত পরামর্শ প্রদান করছি।