Dainik Sotter Kontho- দৈনিক সত্যের কণ্ঠ
Dainik Sotter Kontho - দৈনিক সত্যের কণ্ঠ
ঢাকাTuesday , 13 June 2023
  • অন্যান্য

শিশুর পেট ব্যথা রিপোর্টে দেখানো হয়েছে অন্তসত্ত্বা

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় ১৩ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ভুল রিপোর্ট দেওয়ার প্রতিবাদে একটি ক্লিনিক তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন এলাকাবাসী ।

গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ মাঠসংলগ্ন ডোমার জেনারেল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি অবরোধ করেন রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী । এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে ।

অভিযোগে জানা গেছে, মাদ্রাসাপড়ুয়া ১৩ বছর বয়সী এক শিশু গত রোববার বিকেলে পেটে ব্যথা অনুভব করলে ডোমার জেনারেল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাকে নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন । ওই ক্লিনিকে আলট্রাসনোগ্রাফি ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা বলে রিপোর্ট দেয় । রিপোর্ট পাওয়ার পর পরিবারের লোকজনের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে । অবিবাহিত এত ছোট একটি মেয়ে কীভাবে গর্ভবর্তী হয়? রাতে তাঁরা অন্য আরও দুটি ক্লিনিকে একই পরীক্ষা করে জানতে পারেন, তাঁদের মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা নয় ।
মেয়েটির বড় বোন বলেন,’ আমার বোন ওই রিপোর্ট শোনার পর শুধু কান্না করছে । কোনো খাওয়াদাওয়া করছে না । সে অস্বাভাবিক আচরণ করায় আমরা সারা রাত তাকে পাহারা দিয়েছি ।

 

কিন্তু সে মেনে মেয়েটির নানি বলেন,’ পরীক্ষা- নিরীক্ষার পর ডিএনসি করার জন্য ক্লিনিকের লোকজন আমার কাছে সাড়ে তিন হাজার টাকা চেয়েছে । গরিব মানুষ- সাড়ে তিন হাজার টাকা জোগাড় করতে না পারায় ডিএনসি করতে পারি নাই । এলাকাবাসী অনেকে আবার অন্য ক্লিনিকে পরীক্ষার করার কথা বললে, আমরা আরও দুটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করে উল্টো রিপোর্ট পাই । পরে জানতে পারি, ওই ক্লিনিকে নাকি ডাক্তার থাকে না । ওয়ার্ডবয় ও নার্স দিয়ে পরীক্ষা ও অপারেশন করা হয় ।’

মেয়েটির মামা বলেন,’ বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে মীমাংসা করার জন্য আমাকে প্রস্তাব দিয়েছে । আমি ওই ক্লিনিকটি বন্ধের দাবি করছি ।’ ডোমার জেনারেল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন, ডাক্তার নেহারঞ্জন সাহা আলট্রাসনোগ্রাফি করেছেন । আর প্যাথলজির টেকনোলজিস্ট লক্ষণ রায় প্রস্রাব পরীক্ষা করে অন্তঃসত্ত্ব হওয়ার রিপোর্ট দিয়েছেন । হয়তো তারা ভুল রিপোর্ট দিয়েছেন ।

ডাক্তার নেহারঞ্জন সাহা বলেন হয়তো মেশিন · সমস্যার কারনে আলট্রাসনোগ্রাফিতে ভুল রিপোর্ট এসেছে টেকনোলজিস্ট লক্ষণ রায় বলেন,’ এ ক্লিনিকে আমি কোনো প্রস্রাব পরীক্ষা করি নাই । হয়তো ক্লিনিকের কেউ করেছেন ।

বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রায়হান বারী বলেন,’ এ বিষয়ে লিখি একটি অভিযোগ পেয়েছি । তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে ।