Dainik Sotter Kontho- দৈনিক সত্যের কণ্ঠ
Dainik Sotter Kontho - দৈনিক সত্যের কণ্ঠ
ঢাকাThursday , 8 June 2023
  • অন্যান্য

ভুল ও অসদাচরনের জন্য সংবাদের শিরোনাম হচ্ছেন কাজী হায়াৎ

ভায়োলেন্ট টেম্পার- বা রগচটা হিসেবে অশ্লীল সংলাপের জন্য পরিচিত কাজী হায়াৎ বার বার সাংবাদিকদের সঙ্গে বাজে আচরণ করে জোড় হাতে ক্ষমা চেয়েছেন । মূলত তিনি বাজে আচরণের জন্য সংবাদ শিরোনাম হন বার বার । সম্প্রতি বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সাংবাদিক, গবেষক ও বাচসাসের দপ্তর সম্পাদক আহমেদ তেপান্তরকে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিচালক সমিতির প্রাঙ্গণে ঢুকতে নিষেধ করে নোটিশ টানিয়ে আলোচনায় আসেন । এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন খোদ তার সংগঠনের সাবেক সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, সাবেক মহাপরিচালক, এফ আই মানিক, বদিউল আলম খোকন ছাড়াও সরবহন গুণী নির্মাতা এস এ হক অলিক ও খিজির হায়াত খান । এছাড়াও নিজ সহকর্মীদের ভর্ৎসনার শিকার হন এই পরিচালক । তবে তার দাবি মহাসচিব শাহীন সুমন তাকে যা বুঝিয়েছিলেন তিনি সে মতেই নিষিদ্ধের নোটিশে সাক্ষর করেন । এমনকি সেন্সরবোর্ডেও তার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে ।

অবস্থা যখন সাংবাদিক- পরিচালক সমিতি মুখোমুখি তখন বরেণ্য অভিনেত্রী রোজিনা তার প্রথম সিনেমা ‘ ফিরে দেখা’র সংবাদ সম্মেলন করবেন পরিচালক সমিতির নেতৃবৃন্দকে ছাড়াই । ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- এ মুহূর্তে রোজিনার সাংবাদিক দরকার, তিনি কোনো ঝামেলায় জড়াতে চান না । তাছাড়া যুগ যুগ সাংবাদিকদের কারণেই ভক্তরা তাকে মনে রেখেছে । তাই তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে শুধু সাংবাদিক নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে এফডিসি ভেন্যু পরিবর্তন করেছেন । এমনকি এ নিয়ে কাজী হায়াৎকেও সাংবাদিকদের সঙ্গে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন এই অভিনেত্রী ।

তবে অতীত ইতিহাস বলে সাংবাদিকদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ঝামেলা সৃষ্টি করে ক্ষমা চাওয়ার সবচেয়ে বেশি নজির স্থাপন করেছেন ভায়োলেন্ট ট্যাম্পার হেডেড কাজী হায়াৎ ।

এরআগে তিনি দীর্ঘ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে শুধু নিজের সহকর্মীই নন, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় মারমুখী আচরণ করেছেন । তিনি এতোটাই শর্ট টেম্পার যে, একবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানস্থলেই তিনি সিনিয়র সাংবাদিক মাহমুদা চৌধুরীকে মারার জন্যে চড়াও হন । বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রসমালোচক মাহমুদা চৌধুরী নাকি বিশাল অন্যায় করে ফেলেছিলেন কাজী হায়াৎ নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের সমালোচনা করায় । ওই সময় মাহমুদা চৌধুরী সাপ্তাহিক বিচিত্রায় নিয়মিত চিত্রসমালোচনা লিখতেন ।

আরেকবার ২০০০ সালে সাভারের ফুলবাড়িয়ায় ডিপজলের ফাহিম শুটিং স্পটে ডিপজল প্রযোজিত একটি ছবির মহরতে ঢাকা থেকে চলচ্চিত্র সাংবাদিকরা সেখানে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলেন । সেখানে মানবজমিন পত্রিকার সাংবাদিক রাকিব হাসান এর ওপর আকস্মিক চড়াও হন । উপস্থিত সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে কাজী হায়াৎ নিবৃত্ত হয়েও উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, আমি কাজী হায়াত আছি বলেই তোমরা সাংবাদিকরা বউ বাচ্চাদের মুখে ভাত তুলে দিতে পারছো । তার এই ঔদ্ধত্য আচরণের পর সাংবাদিকরা ঢাকায় ফিরে এসে তাকে বয়কটের ঘোষণা দেন । পরবর্তীতে বাচসাস এর তৎকালীন সভাপতি রফিকুজ্জামানসহ পুরো কমিটির কাছে কাজী হায়াৎ করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন । বাচসাস এবং চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির যৌথ ওই সভাটি খোদ পরিচালক সমিতিতেই অনুষ্ঠিত হয় ।

এই ঘটনার আট বছর পর ২০০৮ সালের শুরুতে সিনিয়র চলচ্চিত্র সাংবাদিক তুষার আদিত্য’র সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন । ওই ঘটনায় কাজী হায়াতের সহযোগী ছিলেন প্রয়াত তিন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন ও মোহাম্মদ হান্নান । এই চারজন চিত্রবাংলা পত্রিকার তৎকালীন প্রতিবেদক তুষার আদিত্য’র ওপর চড়াও হন তারই অফিস কম্পাউন্ডে । চার পরিচালকের সঙ্গে তুষার আদিত্য এবং তার অফিসের সিকিউরিটির লোকজনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে । অতঃপর ওই ঘটনায় কাজী হায়াত এবং প্রয়াত তিন পরিচালক হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে সে যাত্রায় রেহাই পান ।

একজন মনোবিদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলে জানা যায়- ভায়োলেন্ট ট্যাম্পার হেডেড একটি মানসিক রোগের নাম । এই রোগের বাংলা অর্থের সঙ্গে সবাই পরিচিত, রগচটা । রগচটা রোগীর সাধারণ উপসর্গ হলো- হুটহাট উত্তেজিত হওয়া, অল্প কথায় রাগ হওয়া, মানুষকে গালিগালাজ করা এবং রাগের বহিঃপ্রকাশ মানুষ কে মারতে যাওয়া । এমনকী এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির দ্বারা তার পরিবার পরিজনও বকাবকি ও শারীরিকভাবে আক্রান্ত হন । আমাদের সমাজে ভায়োলেন্ট টেম্পার রোগী প্রচুর দেখা যায় । দেশের শিল্প- সংস্কৃতি অঙ্গনের সঙ্গে জড়িত অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত । এক্ষেত্রে চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াত সময়ের উপযোগী নাম ।

এ অবস্থায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সহকর্মীদের অনেকেই সমিতির চলতি দায়িত্ব থেকে কাজী হায়াৎকে অবসরে পাঠানোর প্রস্তাবও তারা করবেন বলে জোর গুঞ্জন উঠেছে । একই সঙ্গে শাহীন সুমনকেও তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটনায় দায়ী করে বহিস্কারের চিন্তা করছেন বলে খবর এসেছে । তবে এ নিয়ে সাংবাদিকদের মাথা ব্যথা নেই । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিনোদন সাংবাদিকদের সিনিয়র কয়েকজন বলেন- ওখানে কে কাকে বহিস্কার করবে বা করবে না এটা তাদের ব্যাপার । আমরা চাই সিনিয়র সাংবাদিক আহমেদ তেপান্তরের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে সেটার জন্য তারা অনুতপ্ত হবে, এটাই ।