Dainik Sotter Kontho- দৈনিক সত্যের কণ্ঠ
Dainik Sotter Kontho - দৈনিক সত্যের কণ্ঠ
ঢাকাTuesday , 14 November 2023
  • অন্যান্য

বালিয়াডাঙ্গীতে নীলগাই উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
November 14, 2023 10:05 am । ৬৮ জন
ছবিঃ প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ভারতীয় একটি নীলগাই উদ্ধার করেছে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন( ৫০) বিজিবি ।

সোমবার( ১৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার পারিয়া ইউনিয়নের ফকিরভিটা নামক এলাকায় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিজিবি নীলগাইটিকে ধরতে সক্ষম হয় ।

জানা যায়, দুপুরে ১ টায় শালডাঙ্গা নামক এলাকায় স্থানীয় লোকজন নীরগাইটি দেখতে পেয়ে বিজিবিকে খবর দেয় । কান্তিভিটা বিওপির টহল দল সেখানে গিয়ে নীলগাইটি খোঁজা শুরু করে । পরে এলাকাবাসির সহায়তায় দুপুর পৌনে ৩ টায় নীলগাইটিকে ধরেন ।

ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী জানান, বর্তমানে নীলগাইটিকে কান্তিভিটা বিওপিতে রাখা হয়েছে । জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে সেটি হস্তান্তর করা হবে ।

 

নীলগাই সম্পর্কে জানুন

 

নীলগাই কি?

নীলগাই (দ্বিপদ নাম: Bocephalus tragocamelus)[৪][৫][৬][৭] (ইংরেজি: Blue Cow) এশিয়ার কৃষ্ণসার জাতীয় প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে বৃহদাকৃতি। পুরুষ কৃষ্ণসার নীলগাও নামেও পরিচিত।

নীলগাই কোথাই পাওয়া যায়?

ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলেই নীলগাই দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মালাবার উপকূল ও বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন অঞ্চলগুলো বাদে উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে দক্ষিণে কর্ণাটক প্রদেশ পর্যন্ত এদের দেখা মেলে। এছাড়া পাকিস্তান ও নেপালের ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় নীলগাই দেখা যায়।[১] চীনেও নীলগাই রয়েছে বলে জানা যায়।[৮] ১৯৫০ এর পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশের দিনাজপুর এলাকায় নীলগাই দেখা গেলেও বর্তমানে তা বিলুপ্ত।[৯] যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে নীলগাই অবমুক্ত করা হয়েছে।

নীলগাই কেমন?

নীলগাই এমনিতে সুন্দর, তবে দেখতে অনেকটা বিদঘুটে চেহারার ঘোড়ার মত। দেহের পেছনের দিক কাঁধ থেকে নিচু। কারণ সামনের পা পেছনের পা থেকে লম্বা। ঘাড়ে বন্য শূকরের কেশরের মত ঘন লোম থাকে। মর্দা নীলগাইয়ের গাত্র বর্ণ গাঢ় ধূসর, প্রায় কালচে রঙের।। অনেক সময় গায়ে নীলচে আভা দেখা যায় বলে এদের নীলগাই নামকরণ। মাদী নীলগাই ও শাবকের গাত্র বর্ণ লালচে বাদামী কিন্তু খুরের উপরের লোম সাদা এবং প্রত্যেক গালে, চোখের নিচে ও পেছনে দুটি সাদা ছোপ থাকে। ঠোঁট, থুতনি, কানের ভেতরের দিক ও লেজের নিচের তলদেশ সাদাটে।[১০]

মর্দা নীলগাইয়ের শুধু শিং হয়। শিং দুটি মসৃণ, অনুচ্চ, কৌণিক ও সামনের দিকে ঈষৎ বাঁকানো। শিঙের গোড়া ত্রিকোণাকৃতি হলেও ডগা বৃত্তাকার।

নীলগাই এর দেহের মাপ?

পুরুষ নীলগাইয়ের উচ্চতা সাধারণত ১৩০-১৪০ সেন্টিমিটার (৫২-৫৬ ইঞ্চি)। তবে ১৫০ সেন্টিমিটার (৫৮ ইঞ্চি) পর্যন্তও হতে পারে। মাদী নীলগাই আকারে একটু ছোট হয়। শিঙের দৈর্ঘ্য গড়ে ২০ সেন্টিমিটার (৮ ইঞ্চি), রেকর্ড পরিমাণ দৈর্ঘ্য ২৯.৮ সেন্টিমিটার (১১.৭৫ ইঞ্চি)।[১০]

নীলগাই এর আচরণ?

সচরাচর ৪ থেকে ১০ সদস্যের দল নিয়েই নীলগাই ঘুরে বেড়ায়। দলে কখনও ২০ বা তার বেশি সদস্যও থাকতে পারে। শিশু-যুবা-বৃদ্ধ একসঙ্গে থাকে।

নীলগাই গাছেঢাকা উঁচু-নিচু সমতলে বা তৃণভূমিতে যেমন স্বচ্ছন্দে বিচরণ করতে পারে, তেমনি আবার শস্যক্ষেত্রে নেমে ব্যাপক ক্ষতি করতে পটু। সকাল আর বিকেলে খাওয়ার পাট চুকিয়ে দিনের বাকি সময়টা গাছের ছায়ায় বসে কাটায়। মহুয়া গাছের রসালো ফুল এদের দারুণ পছন্দ। পানি ছাড়া এরা দীর্ঘসময় কাটিয়ে দেয়, এমনকি গরমের দিনেও এরা নিয়মিত পানি খায় না।[১০] আত্মরক্ষার প্রধান উপায় দৌড়ে পালানো। দ্রুতগামী ও শক্তিশালী ঘোড়ার পিঠে না চড়ে নীলগাই ধরা প্রায় অসম্ভব।

গন্ডারের মত নীলগাইও একটি নির্দিষ্ট জায়গায় মলত্যাগ করে ঢিবি বানিয়ে ফেলে।