Dainik Sotter Kontho- দৈনিক সত্যের কণ্ঠ
Dainik Sotter Kontho - দৈনিক সত্যের কণ্ঠ
ঢাকাTuesday , 6 June 2023
  • অন্যান্য

দুই ওসিকে দায়ী করে চিরকুট লিখে ঝাড়ুদারের আত্মহত্যা

ডেক্স রিপোর্ট
June 6, 2023 2:18 pm । ১৪১ জন

‘ আমি নিরদোশ( নির্দোষ) । আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী ইন্দুরকানী থানার ওসি এনামুল হক আর পিরোজপুর সদর থানার ওসি আবির মো. হোসেন । আমি ইন্দুরকানী থানার ওসির টাকা চুরি করি নাই । আমাকে ফাঁসানো হয়েছে । ’ মৃত্যুর আগে এ রকমই একটি চিরকুট লিখে পিরোজপুর সদর থানায় কর্মরত ঝাড়ুদার আল মামুন( ৪০) আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে । চিরকুট । সোমবার( ৫ জুন) পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার গাবগাছিয়া গ্রামে বিষপানের পর ঢাকা নেয়ার পথে তিনি মারা যান ।

মারা যাওয়া মামুন ইন্দুরকানী উপজেলার গাবগাছিয়া গ্রামের আবুল কালাম শেখের ছেলে । তিনি প্রায় ১০ বছর ইন্দুরকানী থানায় ঝাড়ুদারের চাকরি করার পর দুই মাস আগে ইন্দুরকানী থেকে পিরোজপুর সদর থানায় বদলি হয়ে আসেন । তবে সে বাড়ি থেকে পিরোজপুরে এসে তার দায়িত্ব পালন করতেন । মামুনের স্ত্রী মরিয়ম বেগম জানান, তার স্বামী রোববার( ৪ জুন) বিকেলে বাড়িতে ফেরার পর তাকে খুবই বিমর্ষ দেখাচ্ছিল ।

এরপর তাকে অনেক জিজ্ঞাসা করার পর তিনি জানান, মসজিদ থেকে একটি জায়নামাজ চুরির অভিযোগে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন তাকে গালমন্দ করার পাশাপাশি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন । এ ঘটনায় মামুন কোনো অঘটন ঘটাতে পারে এই আশঙ্কায় পরিবারের সদস্যরা পুরো বিকেল এবং রাতেও তাকে পাহারা দেন । তবে সকালে বাজারে গিয়ে আগাছা নিধনের ওষুধ কিনে তা পান করেন মামুন । এরপর বাড়িতে এসে তাকে( স্ত্রী) জানালে, দ্রুত মামুনকে ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয় । সেখান থেকে তাকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে এবং পরবর্তী সময়ে বরিশাল শের- ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয় । সেখানে মামুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে রওনা হন স্বজনরা । পথিমধ্যে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মামুনের মৃত্যু হয় ।
মামুনের স্ত্রী মরিয়মের অভিযোগ, ইন্দুরকানী থানায় থাকাকালীন ওই থানার ওসি এনামুল হক তার স্বামীর ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন । এমনকি তিনি পিরোজপুর সদর থানায় যাওয়ার পরও ইন্দুরকানী থানার ওসি ওই থানার ওসির কাছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে আজেবাজে কথা বলেন, যাতে সেখানেও তার স্বামী নির্যাতিত হন । এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এনামুল হক । তিনি বিষয়টি জানার জন্য পিরোজপুর সদর থানা কিংবা হাসপাতালে যোগাযোগ করতে বলেন ।

অন্যদিকে পিরোজপুর সদর থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন জানান, থানায় চুরি কিংবা মামুনকে গালমন্দ ও মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি । মামুনের আত্মহত্যার বিষয়টি জেনেছেন বলে জানান পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান । তবে তাকে গালমন্দ কিংবা মারধরের কোনো বিষয় তার জানা নেই বলে জানান এসপি । এ ছাড়া এ বিষয়ে তিনি কোনো অভিযোগও পাননি । পুলিশ সুপার আরও জানান, মামুনের লেখা চিরকুটের বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকে জেনেছেন । মামুন এ বিষয়ে আগে কখনো তার কাছে কোনো অভিযোগও করেননি । চিরকুটের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার । মামুন ও মরিয়ম দম্পতির আফসানা আক্তার মীম নামে ১৬ বছর বয়সী একটি মেয়ে এবং আব্দুল্লাহ আল কাওসার নামে ৮ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে । মঙ্গলবার( ৬ জুন) সকালে মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পিরোজপুরে নেয়া হবে । যদিও চিরকুটের শেষ অংশে মরদেহ ময়নাতদন্ত না করে তার মামাবাড়িতে দাফনের দাবি জানিয়েছেন মামুন ।